ব্লুটুথ কি ? কিভাবে কাজ করে ?

হ্যালো বন্ধুরা আশা করি সবাই ভাল আছেন, আমিও ঠিকঠাক । ব্লুটুটথ কি সেটা তো আমরা সবাই জানি তাইনা ! একফোন থেক ফোনে কোন কিছু আদান প্রদানের এক অভিনব পদ্ধতি। আজ আমরা আলচনা করবো এই ব্লুটুথ নিয়ে । কি এই ব্লুটুথ? কিভাবে কাজ করে ? সব কিছু নিয়ে । আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে, তাই আপনি যদি এই পোস্টে আগ্রহী থাকেন তাহলে এই লেখাটি কন্টিনিউ করতে পারেন -

ব্লুটুথ তো ব্যাবহার করেছেন ই । সেই ছোট বেলার নোকিয়ার ফোনের কথা মনে আছে, সেই তখন থকে ব্লুটুথ এর সাথে পরিচয় হয় আমার। আমার ক্ষত্রে ব্লুটুথের ব্যাপার টা এমন ছিল-

একদিন দেখলাম পরিচিত বড়ো ভাইয়েরা দুইটা ফোন কাছাকাছি নিয়া রাখছে আর বলছে একটা  থেকে নাকি আরেকটাতে গান শেয়ার করছে, আমি বিশ্বাস করিনাই । তখন আমি বেশ ছোট। তখন মাথাই প্রশ্ন ছিলো কোন তার কিংবা ক্যাবলস নাই, ক্যামনে কি। হয়তো  মজা করছে । এটাই তখনে ভেবেছিলাম। কিন্তু আস্তে আস্তে বড় হতে হতে ফোন হাতে নেয়া শুরু করলে বুঝতে পালাম এটা আসলেই অস্থির জিনিস। প্রথম দিকে তো খুবই মজা লাগতো । যে বাতাসের মধ্য দিয়া ফাইল ট্যানেস্ফার করতে পারছি। সেই ফিল পেতাম । পরে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে গেলো । 


Bluetooth connectivity

image credit: Pixabay.com

আপনাদেরও কারো হয়তো কোন না কোন গল্প আছে এই ব্লুটুথ নিয়া। সময় পেলে কমেন্ট করে জানাবেন। তো যেটা বলছিলাম -

শুরুর দিকে আমরা ব্লুটুথ ব্যাবহার করতাম শুধুমাত্র অডিও, ভিডিও, কিনবা ইমেজ সেন্ড করার জন্য। কিন্তু প্রজুক্তির উন্নতির সাথে সাথে সেটা এখন আরো উন্নত এবং চেইঞ্জ এখন আর তেমন কেউই এই ব্লুটুথ কে ফাইল ট্যানেস্ফারের জন্য ব্যাবহার করে না । এখন ফাইল ট্যানেস্ফারের জন্য কতো কতো প্রযুক্তি । আগে তো ইন্টারনেটের অবস্থা ছিলো করুন এখন সেই তুলনাই অনেক এগিয়ে যদিও বিশ্বের সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে । তবে আগের থেকে তো অনেক বেটার এই আর কি। এছাড়া ওয়াইফাই হটস্পট এর মাধ্যমে আমরা ফাইল ট্যানেস্ফার করে থাকি ।

আর তাই ব্লূটুথ এর মাধ্যমে ফাইল ট্যান্সফার খুব কম লোক ই করেন, কিন্তু ফাইল ট্যান্সেফার না করলেও এখনো কিন্তু এই চমৎকার প্রযুক্তির ব্যাবহার আমাদের অনেক হেল্প করে। এখন ব্লুটুথ এর কথা মাথায় আসলে মনে পড়ে ব্লুটুথ হেডফোন কিংবা স্পিকারের কথা, এছাড়া অনেক ধরনের ডিভাইস র‍য়েছে যা কিনা ব্লুটুথ ব্যাবহার করে আসছে। 



ব্লুটুথ কিভাবে কাজ করে ? 

আমরা সবাই জানি ব্লুটুথ আমাদের ফোনে কেনো , ডেটা ট্রান্সমিশন এর জন্য তাইনা ?আমরা যখন মোবাইলে কথা বলি তখন সেই ডাটা বা তথ্যগুলা এনালগ থেকে ডিজিটালে কনভার্ট হয়ে টাওয়ারে যাচ্ছে এবং অপর ব্যক্তির কাছে সেই ডাটা ডিজিটাল থেকে এনালগ হচ্ছে এবং তারপর সে শুনতে পাচ্ছে।ঠিক একইভাবে  ব্লুটুথের জন্যও কিন্তু মোবাইলে একটি এন্টেনা থাকে, যেটা কিনা ডাটা ট্যান্সেমিশনে সাহায্য করে । 

Bluetooth হচ্ছে ওয়্যারলেস বা তারবিহীন যোগাযোগের একটি মাধ্যম। সাধারণত ব্লুটুথের  range ১০ মিটার বা তার অধিক ও হতে পারেবিদ্যুত কোষের শক্তি বাড়ানোর মাধ্যমে এর রেঞ্জ আরো বাড়ানো যেতে পারে, এবং সেটা ১০০ মিটার এর মধ্যে হয়ে থাকে।  তাই আমরা এটাও বলতে পারি যে , ব্লুটুথ হচ্ছে ১ থেকে ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ওয়্যারলেস যোগাযোগের একটি পদ্ধতি। 

যা কিনা ক্ষুদ্র পাল্লার জন্য প্রণীত একটি ওয়্যারলেস প্রোটোকল। ব্লুটুথ এর মাধ্যমে আমরা চাইলে একসঙ্গে ৮ টি যন্ত্রের সাথে কানেক্ট করতে পারি।  কিন্তু প্রত্যেকটি যন্ত্রকে ১০ মিটার ব্যাসার্ধের একটি বৃত্তের মধ্যে অবস্থান করতে হবে। তার কারণ হচ্ছে  ব্লুটুথ প্রযুক্তি তার নির্দিষ্ট অবস্থান হতে আশেপাশে চারিদিকে বৃত্তাকার পথে সর্বোচ্চ ১০ মিটার পর্যন্ত কভারেজ দিয়ে থাকে

এবার আপনার মনে যদি এটা প্রশ্ন জাগে যে, - 

একসঙ্গে ৮টি ডিভাইসে কানেক্ট করলে সমস্যা হয় না?

এক কথায় এর উত্তর হলো না। কেননা ব্লুটুথ এই সমস্যার জন্য একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে যা "spread-spectrum frequency hopping" নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে কোন ডিভাইস কম্পাঙ্ক হতে ৭৯টি পৃথক কম্পাঙ্ক এলোমেলোভাবে গ্রহণ করে এবং নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তা একের পর এক পরিবর্তন করতে থাকে। ট্রান্সমিটার প্রতি সেকেন্ডে ১৬০০ বার কম্পাঙ্ক পরিবর্তন করে। যার ফলে অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন ডিভাইসগুলোর মধ্যে একই সময়ে একই কম্পাঙ্ক এর তথ্য প্রেরণ করা প্রায় অসম্ভবই বললে চলে। এই পদ্ধতিতে একই সময়ে একাধিক ডিভাইসগুলো একই কম্পাঙ্ক ব্যবহার করে না যার ফলে একে অপরের যোগাযোগে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।

শেষ কথাঃ 

তো এই ছিলো আজকের লেখায়, আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না । ধন্যবাদ ❤

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post